ফরিদগঞ্জে ড্রেন নির্মাণ কাজ নিয়ে মেয়রের অসন্তোষ

ফরিদগঞ্জে ড্রেন নির্মাণ কাজ নিয়ে মেয়রের অসন্তোষ

ফরিদগঞ্জে ড্রেন নির্মাণ কাজ নিয়ে মেয়রের অসন্তোষ

ফরিদগঞ্জ বাজারের ড্রেন এর কাজের সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শ দিয়েছেন ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী।

কাজে হযবরল অবস্থা ও কাজের মান নিয়ে পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠার ফলে তিনি ঠিকাদার কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে এ নির্দেশ দিয়েছেন।

২৪ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫টি পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ১৪৫০ মিটার ড্রেন নির্মান করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ফরিদগঞ্জ পুর্ব বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেরোয়া সড়কের অংশে ডিজাইন সংশোধন করে কাজ শুরু হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- সম্পূর্ণ ড্রেনটির নিমার্ণ কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

অভিজ্ঞ জনদের মতে ড্রেনের নীচ থেকে ইউ ডিজাইনে বাঁকা করে ভার্টিকেল (খাড়া) রড বাইন্ডিং করার উচিৎ ছিলো। কিন্তু তা করা হয়নি। এতে, ভার্টিকেল ওয়াল দুর্বল হবে। ভারী যানবাহন চলার সময়ে ভাইব্রেশনে ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অবশ্য, চলমান এ কাজে এ নিয়ম নেই বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন দাবী করেছেন। তাছাড়া খাড়া রডের ওপর টানা রডের বাইন্ডি এর ঘনত্ব (ফাঁক বা দূরত্ব) ৩০০ এম.এম. দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সাব ঠিকাদার পরিচয় দানকারী সালাম মিয়া বলেন, এটা ২০০ এম.এম. হওয়ার কথা। বাড়িয়ে দিয়েছেনকেনা- এমন প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন ও বলেছেন এটা সিডিউল সম্মত হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢালাইতে কাজের শুরু থেকে লোকাল সেন্ট (বালি) দেয়া হয়েছে। অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া (কংক্রিট) ব্যবহার হয়েছে। কাজেরস্থলে লোকাল সেন্ট ও নিম্নমানের খোয়া দেখা গেছে। এ ব্যপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন লোকাল সেন্ট ব্যবহারের বিধান রয়েয়ছে।

অন্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন খোয়া নিম্ন মানের- এটা ঠিক হয়নি।

স্থানীয় গনমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন, ব্যবসায়ীদের অভিযোগে প্রকাশ প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা খায়ের পাটওয়ারী সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের মানের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরে তিনি পৌরসভার দুইজন প্রকৌশলী ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের প্রকৌশলীকে একত্রে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব দেন।

এই বিষয়ে পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিমার্ণ কাজ করছে। আমরা তদারকি করলেও সকল দায় দায়িত্ব তাদের।

জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করলেও পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের তদারকি করার দায়িত্ব।

চাঁদপুর টুডে/শিমুল হাছান/এফএস
পাঠকের মন্তব্য