ইসি গঠনে আইন: বড় অর্জন হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ

ইসি গঠনে আইন: বড় অর্জন হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ

ইসি গঠনে আইন: বড় অর্জন হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ

একাত্তরে দেশ স্বাধীন হবার পর দ্রুততম সময়ে প্রণয়ন করা হয়েছিলো সংবিধান। সদ্য স্বাধীন দেশে শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সে সময়েই স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা। এরপর থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে আইন গঠনের পথে হাঁটছে দেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন বিল জাতীয় সংসদে পাসও হয়েছে। ইতোমধ্যে বিলে রাষ্ট্রপতি সইও করেছেন।

গত ২৭ জানুয়ারি সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ইসি গঠন আইনের এ প্রক্রিয়াকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

ইসি গঠনে আইন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন, সংস্কার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে যে সব গুণগত পরিবর্তন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালীন সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার তার প্রায় সবকিছুই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দলটির নেতারা বলছেন, ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজিত করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশকে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) প্রণয়ন করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় স্বৈরশাসকরা। সেই সময় থেকে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা। যার ফলে বিনষ্ট হয়ে যায় দেশের গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি ও পরিবেশ।

এরপর দীর্ঘ ৫০ বছর অতিবাহিত হলেও দেশে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন করেনি কোনো রাজনৈতিক দল। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে সংসদে বিলটি পাসও হয়েছে। রাষ্ট্রপতিও তাতে সই করেছেন। এখন বিলটি গেজেট আকারে প্রকাশ হলে প্রথমবারের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন পাবে বাংলাদেশ। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হবে। ফলে নতুন আইনেই নতুন কমিশন গঠন করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে গেল সপ্তাহে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিলের দু’টি ধারায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনসহ পাসের সুপারিশ করে গত বুধবার সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয় আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

দলের নেতারা বলছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এগিয়ে গেছে। আর্থিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে প্রযুক্তিতে সক্ষমতা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন-২০০৯’ প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশনের আইনগত ক্ষমতা, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। বৃদ্ধি পেয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বিবার্তাকে বলেন, দেশ স্বাধীনের পরপর দ্রুততম সময়ে বঙ্গবন্ধু সংবিধান প্রণয়ন করেছেন। যদি আমরা স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাস দেখি, এই ধরনের কাজ কিন্তু এতো দ্রুত গতিতে হয় না। এসব করার কারণ আওয়ামী লীগ সবসময় একটা বিধিবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলতে চায়।

তিনি বলেন, বিলটি সংসদে ওঠার পর বিরোধী দলের কাছ থেকে ২২টি সংশোধনী এসেছে। মানুষের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সবসময় বিরোধী মতকে প্রাধান্য দেয়। যার কারণে সব সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষের ক্ষমতায়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার উদাহরণ বিলটি।

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু  বলেন, দেশে যত বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয়েছে। দেশে যে সমস্ত জিনিস হওয়া দরকার, যেগুলো কখনো হয়নি সেগুলো আওয়ামী লীগ শুরু করেছে। সংবিধানের সুরক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছরে জিনিসটা হওয়ার কথা ছিলো, সেটা তিনি শুরু করলেন। এ আইন নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা থাকতে পারে; কিন্তু ক্রেডিটটা দিতে হবে আওয়ামী লীগকে। কারণ আইনটা তো আগে ছিলোই না। এটা আওয়ামী লীগের জন্য বড় অ্যাচিভমেন্ট।

পাঠকের মন্তব্য