বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজন সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজন সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজন সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন খুবই প্রয়োজন। কারণ আমাদের সন্তানরা করোনাকালিন অবরুদ্ধ সময় পার করে কিছুটা ভালো সময়ের দিকে যাচ্ছে। আমরা তরুণ সমাজকে যে পরিবেশ দিবো, সেইভাবেই তারা গড়ে উঠবে। তরুণরা যদি বিপদগামী হয়, তবে সে দায়ভার অভিভাবকদের উপর বেশি বর্তায়। আমরা আমাদের সন্তানদেন যদি ভালে পরিরবেশ দিতে না পারি তবে তারা সুন্দর মনের মানুষ হয়ে বেড়ে উঠবে না। তাদেরকে সুন্দর পরিবেশ দেয়ার দায়িত্বে আমিদের সকলের।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সমাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের রক্ষা করতে হবে। বর্তমান সময়ে অনেকেই যৌথ পরিবার থেকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যার ফলে আমাদের ববা-মায়েদের শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয়। যৌথ পরিবারের বড় হলে তাদেরর মন মানবিকতা উদার হতো। নতুন প্রজন্মকে সত্যিকারে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালো বাসতেন, তিনি দেশকে ভালোবাসতে। এজন্যে তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়োছেন। বঙ্গবন্ধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি কণ্ঠস্বর ছিলেন। তাই আমাদেরও অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতে হবে। অপসংস্কৃিতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

আলহাজ্ব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা অল্পসময়ে যা কাজ করেছেন, তা পৃথিবীর অন্য কোন রাষ্ট্রনায়ক করতে পারেনি। আমাদের সকলের উচিত জননেত্রী শেখ হাসির হাতকে শক্তি-শালি করা। তার পক্ষে জনমত তৈরী করা। জননেত্রী শেখ হাসিনা আর ১০ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। তাদের সুক্ষিত করতে হবে, দেশপ্রেমিক নাগরীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, একজন শেখ মুজিবুর রহমান কি করে বঙ্গবন্ধু উপাধি পেলেন, তিনি কি কারণে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের নেতৃত্বে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিলেন, সে ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। বঙ্গবন্ধু একদিনে বঙ্গবন্ধু হয়ে যাননি। তিনি আমৃত্যু এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কল্যানে কাজ করেছেন। তিনি বাঙালী জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. বদরুজ্জামান কিরণের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি অ্যাড. জসিম উদ্দিন এবং সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন ডালিমের যৌথ পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ভুইয়া কালু, বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আমির উদ্দিন মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অমল কান্তি রক্ষিত।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক রঞ্জন সূত্রধর। এর আগে ২টি গ্রুপে দেশের গান, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান, লোকনৃত্য ও সাধারণ নৃত্যসহ ৫টি বিভাগে প্রতিযোগীতা হয়। এতে প্রায় ৮০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। তাদের মধ্যথেকে প্রত্যেক বিভাগ থেকে ৪ করে মোট ২০জনকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য