শ্রমিক দিবসে সকল শ্রমিকদেরকে সম্মান জানাই

শ্রমিক দিবসে সকল শ্রমিকদেরকে সম্মান জানাই

শ্রমিক দিবসে সকল শ্রমিকদেরকে সম্মান জানাই

১৮৮৬ সালের এ দিন বঞ্চনা আর শোষণের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন শ্রমজীবীরা। আজ মহান মে ডে(শ্রমিক দিবস) ১৮৮৬ এর ১লা থেকে ২০১৯ এর ১ লা মে পর্যন্ত নিহত সকল শ্রমিকদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা। আমার একটা উইশ বা স্ট্যাটাস এ বদলে যাবেনা নিপীড়িত শ্রমিকের ভাগ্য। আমার একটু লেখার বিনিময় আসবেনা ফিরে রানা প্লাজা টু বনানী আর এফ টাওয়ার কিংবা নিমতলী টু চকবাজারের চুড়ি হাট্টায় আগুনে নিহত শ্রমিক রা…… পাবে না ফিরে শ্রমিক দিবস পালনের জন্যে স্বজন রা ও……. . আমার এ লেখায় বন্ধ হবেনা গৃহকর্মী এর উপর মানুষ রূপী অমানুষদের অত্যাচার…….. আমার এ লেখায় তানজিন গার্মেন্টস এর আগুনে জ্বলসানো মৃত মানুষ গুলো আর আসবেনা ফিরে আমাদের মাঝে,হবেনা বন্ধ শিশুশ্রম… যাদের কষ্টে আজ কোটিপতি,তাদের ঘাম ঝরানো শ্রমে আপনি আজ দেশবরেণ্য বিখ্যাত কেউ… তাদের কতোটা মূল্যায়ন করতে পারছি আমরা? আপনি ঠিকি আজ খ্যাতমান,কিন্তু এরা আড়ালেই দুঃখে দুঃখে বহমান…..মাস শেষে ন্যায্য মুজূরী টাও পায়না, মাস শেষে ধর্মঘট করা লাগে ন্যায আদায়ের জন্যে…… কেনো??? আপনার ব্যাংক একাউন্ট এ তো ঠিকি তাদের বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোটা কোটি টাকা হয়ে জমা হচ্ছে,আপনার প্রতিষ্ঠানের সুনাম তো সবাই করছে,শ্রমিকের হক মারা টাকায় আপনার বাসায় রাজভোগ রান্না হয়,আর বেচারা শ্রমিক রা পান্তা আর নুন টুকুর খরচ যোগান দিতে সারামাস কষ্ট করেও ন্যায্য পাওনা না পেয়ে পথে ঘাটে অন্নশন করে না খেয়ে! তাতে আমার আপনার কি আসে যায়….? আমরা কথা কথিত সভ্য সমাজের নামধারী বড়লোক… ঝুঁকি আছে যেনেও আপনি বেআইনী ভাবে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে খুলবেন ফ্যাক্টরি নামের শ্রমিক মরন কল,আর পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে আগুনে পুড়ে কিংবা ধসে পরে যাওয়ার পর কয়েকদিন পত্রিকার লোকজন লিখলো,পোষ্ট হলো ভার্চুয়াল জগতে….. দেশ কিংবা দেশের বাইরের বিভিন্ন সংস্থা গুলো দূঃখ প্রকাশ করলো, বড় বড় লোকেরা এসে সেই মৃত মানুষদের স্বজন দের শান্তনা দিলো সাময়িক,তারপর সব চুপ…… এসবের আড়ালে ৬ মাস ১ বছরের নামে কিছু অর্থের বিনিময়ে আবার ও রক্ষা পাবেন কোটিপতি রা….. আপনি আগের মতোই সোনারগাঁ হোটেলে ডিনার করেন.. নতুন আরেকটা ব্যাবসার কথাও ভাবেন।।। আরে আপনিতো মালিক পক্ষ,,,বড়লোক, ক্ষমতাধারী রাঘব বোয়াল,আর ওই ভুক্তভোগী মানুষ গুলী তো সমাজের নিচুতলার মানুষ, শ্রমিক তো তারা তাইনা??? তাই তাদের প্রতি করা অন্যায়ের বিচার তারা পায়না…. আগুনে আঙ্গার হওয়া কিংবা ভবনের ধসে পড়া স্তুপ এর নিচে সেই মানুষ গুলোর বিকৃত মৃত দেহ আজ আমাদের বিদ্রুপ করলো যে হা হা হা কি শ্রমিক দিবস পালন করছো? আগে আমাদের পাওনা বিচার এনে দাও,আমাদের উপর যে পরিবারবর্গ এর দায়িত্ব ছিলো,আমাদের উপর নির্ভরশীল যে সদস্য গুলো ছিলো,আমাদের অবর্তমান এ কি করেছো তাদের জন্য? আগে আমাদের দু মুঠো খাওয়া নিশ্চিত করো,আমাদের বাঁচতে দাও, বাঁচাও আমাদের অবহেলিত পরিবার। আমাদের হক মেরোনা,বেতন ভাতা ঠিক করে দাও,ছুটি দাও, তারপর শ্রমিক দিবস পালন করো,, অনেক শ্রমিক নেতাকেও ত দেখা যায় পাজেরো গাড়িতে করে শ্রমিক দের ধর্মঘট এ গিয়ে তাদের অধিকার নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে আবার আড়ালে টিস্যু দিয়ে হাত পরিষ্কার করে এসি গাড়িতে চরে বাসায় গিয়ে ভুরিভোজ করে….. দেইনি কোন দিন রিক্সা ওয়ালা চাচাকে ১০ টাকা বেশি??/ ওহ সরি ১০ টাকার মেগাবাইট কিনে ফেসবুক ব্লগ এ লিখলে ভালো বাহ বাহ পাওয়া যাবে আধুনিকতার আড়ালে ভণ্ডামির মোড়কে মোড়ানো এই সমাজে……. চালিয়ে যান শ্রমিক দের জন্য আমার আপনার সুশীল সমাজের পেবুকিং গল্প কিচ্ছা…. সকল শ্রমিক দের প্রতি সম্মান জানাচ্ছি…. একদিন নয়, ৩৬৫ দিনের। লেখক: প্রকৌশলী নেছার পাটওয়ারী।
পাঠকের মন্তব্য