কোভিড-১৯ ও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা: অসিত বরণ দাশ

কোভিড-১৯ ও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা: অসিত বরণ দাশ

কোভিড-১৯ ও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা: অসিত বরণ দাশ

 

রুদ্র ইমরানঃ করোনার শংকায় সমগ্র বিশ্ব আজ স্তব্ধ। থেমে গেছে বিশ্বের অর্থনীতির চাকা, বিশ্বায়নের প্রক্রিয়া। মানুষে মানুষে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে তৈরি হয়েছে বৈশি্বক দূরত্ব, পাশাপাশি চলছে সামাজিক দূরত্ব, শুধু টিকে আছে ভার্চুয়াল জগৎ। ভার্চুয়াল জগতে প্রযুক্তিই একমাত্র মাধ্যম যার সাহায্যে বর্তমানে সকল প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করাসহ প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সভা, উপস্থাপনা, সম্মেলন, ব্যবসা বাণিজ্যসহ শিক্ষা কার্যক্রমও এখন পরিচালিত হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। এ সকল প্রযুক্তি ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে যে জনগোষ্ঠী তারা হলো যুবসমাজ। বাংলাদেশের জন্যে আশার বিষয় হলো যে, এখানে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুবসমাজ। বাংলাদেশের পক্ষে ৫.৩ কোটির এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা খুব একটা কঠিন হবে না।

 


করোনাকালে পৃথিবীকে এক ভিন্ন রূপে দেখছি আমরা। এই ভিন্নতা কেবল প্রকৃতির ক্ষেত্রেই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের আন্তঃসম্পর্ক, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, মানুষের সাথে বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সম্পর্ক এবং মানুষের আচার-ব্যবহার ও দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান। কিন্তু আমরা কি এ অবস্থার জন্য প্রস্তুত ছিলাম? মোটেও না। কারণ চলমান বৈশি্বক ব্যবস্থার সাথে আমরা অনেকটাই মিশে গিয়েছিলাম, যে বিশ্বব্যবস্থা পুঁজিবাদের অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও সমাজতান্ত্রিক জনকল্যাণমূলক নীতিগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছিল।

 


আগামীতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রভাবশালী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ়তা আমাদেরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল দ্রুতগতিতে। কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৮ শতাংশ। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাপী করোনার আবির্ভাব আমাদের জন্য এক বিরাট আঘাত। এ আঘাত মোকাবেলায় সম্ভাব্য তিনটি উপায় আমরা ভাবতে পারি :

 


ক) মানুষ বাঁচানোর প্রশ্নে লকডাউনকে দীর্ঘায়িত করা। কিন্তু লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে যে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশংকা রয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির দেশগুলোর নেই।

 


খ) অর্থনীতির গতিকে ত্বরান্বিত করতে লকডাউন তুলে দেয়া। কিন্তু লকডাউন পুরোপুরি তুলে নিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

 


গ) পরিকল্পিত উপায়ে ধীরে ধীরে লকডাউনকে শিথিল করে অর্থনৈতিক কর্মকা- স্বাভাবিক রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা। এটিই হতে পারে আমাদের সামনে একমাত্র কার্যকর উপায়। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের দিকটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

 


লকডাউন শিথিল হলেও যে কোনো মূল্যে দেশের অভ্যন্তরে করোনা সংক্রমণকে সীমিত রাখতে হবে। যদিও লকডাউন চলাকালীন সময়ে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। এ লক্ষ্যে সরকার এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট এজেন্সী, সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। এখন আমাদের দরকার একটু সচেতনতার। একমাত্র সচেতনতাই পারবে আমাদেরকে সুরক্ষিত রাখতে।

 


 

 


কোভিড-১৯ ও আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম :

 


বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের কয়েকদিনের মাথায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার কথা থাকলেও তা স্থগিত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হবে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে দিন দিন করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে যে কোনো স্তরের শিক্ষার্থীর কোভিড-১৯ দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। নূ্যনতম ঝুঁকির সম্ভাবনার মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে আত্মঘাতী। তাই কোভিড-১৯-এর এ পর্যায়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।

 


দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর প্রথমে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করে। বর্তমানে বাংলাদেশের কলেজ পর্যায়ের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফেসবুক লাইভে তাদের ক্লাস পরিচালনা করছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সরকারও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প উপায়ে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সেরা শিক্ষকদের ক্লাস সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় হঠাৎ করেই অভাবনীয় এক পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

 


মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি একে অনলাইনে একটি শিক্ষা বিপ্লব বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এসডিজি-৪ বাস্তবায়ন এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা অর্জন করার জন্য আমাদেরকে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার পথে যেতেই হতো। আমরা সে পথেই ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিলাম। তবে কোভিড-১৯ এসে আমাদেরকে সেই পথে আরও দ্রুত অগ্রসর হতে বাধ্য করেছে।' এসডিজি-৪ অর্থাৎ মানসম্মত শিক্ষা তথা সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ১০ টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত আছে। এ সকল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল, কর্মমুখী ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে সক্রিয় করে তোলার জন্য শিক্ষায় প্রযুক্তির অনুপ্রবেশ ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

 


বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় অনলাইন শিক্ষার প্লাটফর্মটি একেবারে নতুন। অনলাইন শিক্ষার মূল শর্ত হলো সব শিক্ষার্থীর জন্য কাঙ্ক্ষিত গতির ইন্টারনেট সংযোগের সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় ডিভাইস, যেমন স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং যে মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের ব্যবহারিক জ্ঞান। বর্তমানে অনলাইনে ক্লাস নেয়া বা ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহৃত মাধ্যমগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জুম, ইউটিউব লাইভ, ফেসবুক লাইভ, গুগল ক্লাসরুম, মাইক্রোসফট টিম ইত্যাদি। তবে আমাদের দেশে সহজ ব্যবহার, উপযোগিতা ও পরিচিতির দিক বিবেচনায় ফেসবুক লাইভের অভিগম্যতা বেশি। কারণ বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায় ৭০% সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্ত। আর তরুণদের মধ্যে এই হারটি আরও বেশি, প্রায় ৯০ শতাংশ। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করা ৮০ শতাংশ মানুষের ফেসবুক একাউন্ট রয়েছে।

 


ই-লার্নিংয়ে অভ্যস্ত না হওয়ায় বাংলাদেশে অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যেও অনলাইন শিক্ষা সম্পর্কে রয়েছে নেতিবাচক ধারণা।

 


প্রথমত : অনলাইন শিক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এতে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতো প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম থাকা একান্ত দরকার। এ ছাড়া ডাটা কিনতে হয়। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্টফোন ক্রয় এবং তার সম্ভাব্য সুবিধা অর্জনের সক্ষমতার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

 


দ্বিতীয়ত : কাঙ্ক্ষিত গতির ইন্টারনেট সেবা এখনও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পেঁৗছায়নি।

 


তৃতীয়ত : নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে পাঠদান কার্যক্রম বিঘি্নত হতে পারে।

 


চতুর্থত : পাঠদান পরিবেশ শিক্ষার্থীর মনোনিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু অনলাইন শিক্ষায় অভিন্ন পাঠদান পরিবেশ বজায় রাখাটা খুব একটা সহজ নয়।

 


সত্যিকার অর্থে এই নেতিবাচক ধারণাগুলোই বর্তমানে অনলাইন শিক্ষাকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৬৮% জনগোষ্ঠী কর্মক্ষম, এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধান কঠিন নয়। বিটিআরসি-র তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯ কোটি ৩৬ লাখ ৮১ হাজার। একক মোবাইল ব্যবহারকারীর ২৫ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এই সংখ্যাটা ২০২০ সনে ৬০ শতাংশ উন্নীত হওয়ার আশা করেছিল মোবাইল অপারেটরদের বৈশি্বক সংগঠন জিএসএম। তথ্যগুলো আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় গতির ইন্টারনেট সেবা যাতে পেঁৗছায় এবং যেসব শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট ডাটা কেনার সামর্থ্য নেই তাদের কথা বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সাথে আলোচনা করে একটি সমাধান বের করতে পারে। শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ডাটা কেনার জন্য প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রণোদনাও দেয়া যেতে পারে। তবে এ সংখ্যাটা খুব একটা বেশি হবে বলে মনে হয় না। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বৈদ্যুতিক সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশের মোট ৯২.৫০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী। সুতরাং বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে আমাদের সংশয়ের তেমন কিছু নেই। অভিন্ন পাঠদান পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত জায়গা থেকে ক্লাসগুলো পরিচালনা করতে হবে। কোনো ক্রমেই শিক্ষকের বাসা বা অন্য কোনো স্থান থেকে ক্লাস পরিচালনা করা যাবে না। এতে শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

 


অনলাইন শিক্ষার প্রধান সুবিধা হলো, প্রথমত : শিক্ষককে অনলাইনে মানিয়ে নিতে তার কোর্স আপডেট করতে হয়। অনলাইন শিক্ষাদানে কী বিষয় অর্ন্তভুক্ত থাকবে বা কী বিষয় থাকবে না সে সম্পর্কে শিক্ষকরা গভীরভাবে চিন্তা করে থাকেন। তাই পাঠদানে গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত : অনলাইন শিক্ষা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষকরা ভিডিও লেকচার শীট এবং পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন, যাতে শিক্ষার্থীরা কোর্সের বিষয় একাধিকবার দেখতে বা বিশ্লেষণের সুযোগ পেয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায় খুব সহজে। তাছাড়া এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টির জন্য অনলাইন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে, বাংলাদেশে স্বল্পতার মধ্যেও চালু হওয়া অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম আমাদের দেখিয়েছে যে, স্মার্টফোনকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

 


পরিশেষে, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতীতে কখনো কোভিড-১৯ মহামারির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। উন্নত দেশ যেমন চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ই-লার্নিং সিস্টেম চালু করেছে। চীন জুম অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা চালাচ্ছে এবং এটি অত্যন্ত কার্যকর। তবে এর জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ডিভাইসে উচ্চ ইন্টারনেট গতিসম্পন্ন সংযোগ থাকা প্রয়োজন। এখন আমাদের দরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা। পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় মন্ত্রণালয় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে তাদের স্ব স্ব উদ্যোগে অনলাইনে নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কোর্স সম্পন্নের নির্দেশনা দিতে পারে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় সরকারকে শিক্ষার সকল স্তরে পাঠদান, ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, পরীক্ষা গ্রহণসহ সকল ক্ষেত্রে অভিন্ন ও লাগসই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আশাবাদী আমাদের ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতিতে যে কাঠামো তৈরি হয়েছে তাতে যথাযথ অনুপ্রবেশ হলে আমরা খুব দ্রুতই ই-লার্নিং-এর সফলতায় পেঁৗছতে পারব।

 


লেখক :

প্রফেসর অসিত বরণ দাশ

অধ্যক্ষ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।

পাঠকের মন্তব্য