'সাইবার বুলিং’ অনেক বড় সমস্যা: সাদাত রহমান

'সাইবার বুলিং’ অনেক বড় সমস্যা: সাদাত রহমান

'সাইবার বুলিং’ অনেক বড় সমস্যা: সাদাত রহমান

সাইবার বুলিংকে এখন বিশ্বের একটি বড় সমস্যা বলছেন এবছর আন্তর্জাতিক শিশু পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের সাদাত রহমান। ‘সাইবার বুলিং’ থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করে এ বছর ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার’ পান নড়াইলের এই কিশোর। নেদারল্যান্ডসের হেগে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ১৭ বছর বয়সী সাদাতের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই। পুরস্কার গ্রহণের পর সাদাত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সাইবার বুলিং কেবল বাংলাদেশ নয়; এটি এখন ইন্টারন্যাশনালি অনেক বড় সমস্যা। সাইবার বুলিং নিয়ে সারা বিশ্ব এখন উদ্বিগ্ন। এ সমস্যা সমাধানে সারা বিশ্বকে আজ এগিয়ে আসতে হবে।” সাখাওয়াত হোসেন ও মলিনা খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান সাদাত। দাদার বাড়ি মাগুরা এবং নানার বাড়ি যশোরে। বাবা পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে আগে নড়াইলে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলায় কর্মরত। সাদাত বলেন, “বাবার চাকরির সুবাদে কয়েক বছর আগে সাতক্ষীরা থেকে এসে নড়াইল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমি একটু ডানপিটে এবং জেদী স্বভাবের; চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি। এই সাফল্যের পেছনে আমার পরিবার, আমাদের মাশরাফি ভাই তার সহধর্মিনী সুমি আপু, নড়াইলের ডিসি আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন স্যারের অনেক অবদান আছে। মাশরাফি ভাই সব সময় আমাকে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন।” টিন এইজারদের প্রতি পজিটিভ আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিশু পুরস্কার বিজয়ী এই কিশোর। সাদাত বলেন, “সারা বিশ্বে কয়জন বিল গেটস, কয়জন মাশরাফি হতে পারে? এভাবে না বলে আমাদের বলুন, তুমিও হতে পারো বিল গেটস, মাশরাফি। টিনএইজরা যখন সাইবার ক্রাইমের শিকার হন তখন তারা সব জায়গা থেকে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। অপরাধ না করেও তাদের জীবন দিতে হয়। থানায় অভিযোগ জানিয়েও সব সময় প্রতিকার পায় না। “বাংলাদেশের একটি ছোট জেলা নড়াইলে বসে আইসিটি বেইজড কাজ করে বিশ্ব জয় করা থেকেই বোঝা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, সত্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের রোল মডেল।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সর্ম্পকে তিনি বলেন, পুরস্কারের সঙ্গে পাওয়া এক লাখ ইউরো দিয়ে শিশুদের সাইবার ক্রাইম থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করবেন। যশোরের আইটি পার্কে একটি প্রধান অফিস স্থাপন করে সাথে ঢাকা ও নড়াইলের অফিসে কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন। বিশেষ করে করোনাভাইরাসকালে যেহেতু শিশুরা ইন্টারনেটে বেশি সময় কাটায়, তাই তাদের নিরাপদ করার কাজ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। “আমি একজন ব্যাক বেঞ্চার স্টুডেন্ট, কিন্তু নিজেকে একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ হিসেবে গড়তে চেয়েছি। আমার মেধা এবং স্বপ্ন অনুসারে কাজ করেছি। পুরস্কারের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ আমার আজীবনের পড়াখেলার দায়িত্ব নিয়েছেন, বিদেশের স্কলারশিপ করার সুযোগ করে দিবেন। আসুন সকলে টিনএজাদেরকে তাদের মেধা ও সামর্থ্য অনুসারে বড় হতে দেই,” বলেন সাদাত। তিনি বলেন, “আজকে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের শপিং মলগুলোতে যখন জুতা-জামায় লেখা দেখলাম মেইড ইন বাংলাদেশ তখন গর্বে বুকটা ভরে ওঠল। আসুন সবাই দেশকে ভালোবাসি। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়তে সাহায্য করি।” ২০০৫ সালে রোমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক সম্মেলন থেকে সম্মানজনক এই পুরস্কার চালু করা হয়। প্রতিবছর একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কারটি হস্তান্তর করেন। এর আগে মালালা ইউসুফজাই, সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ফ্লোরিডার স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে বহু হতাহতের পর যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’র আয়োজক শিক্ষার্থীরা এই পুরস্কার পেয়েছেন। আগামী ১৭ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে সাদাত রহমানের।
পাঠকের মন্তব্য