'নগদে'র ১১ লাখ টাকা উদ্ধার হাজীগঞ্জের প্রতারক দম্পতি গ্রেফতার

'নগদে'র ১১ লাখ টাকা উদ্ধার হাজীগঞ্জের প্রতারক দম্পতি গ্রেফতার

'নগদে'র ১১ লাখ টাকা উদ্ধার হাজীগঞ্জের প্রতারক দম্পতি গ্রেফতার

হাজীগঞ্জে মোবাইল ব্যাংকিং 'নগদ' ডিস্ট্রিবিউটরের ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে এই দম্পতি হাজীগঞ্জ থেকে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে রাজধানীর কেরাণীগঞ্জের একটি মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে আত্মগোপন করে। সেখান থেকে পিবিআই এই দম্পতিকে গতকাল শুক্রবার ভোরে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো হাজীগঞ্জ নগদ ডিস্ট্রিবিউটরের ক্যাশ ইনচার্জ ও কম্পিউটার অপারেটর সাগর কুমার দত্ত (৩৭) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্না রাণী ভৌমিক (৩৫)। সাগর কুমার দত্ত হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মকিমাবাদ গ্রামের দত্ত বাড়ির সন্তান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রাণী ভৌমিক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্র জানা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার আলীগঞ্জের নগদ ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স ফরিদ আহমেদের ক্যাশ ইনচার্জ এবং কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে সাগর কুমার দত্ত কর্মরত ছিলেন। সে সুবাদে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন তার মাধ্যমেই করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ মে দুপুরে সেলস্ অফিসার আবুল কালাম ও হৃদয় চন্দ্র দাশের সহায়তায় নগদ ৬ লাখ টাকা একাউন্টে জমা দেয়ার জন্যে এবং ১৯ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্যে সাগর কুমার দত্তকে চেক দিয়ে ব্যাংকে পাঠানো হয়। আবুল কালাম ও হৃদয় চন্দ্রকে ব্যাংকের নিচে দাঁড় করিয়ে রেখে টাকা লেনদেনের জন্যে ব্যাংকে যান সাগর কুমার দত্ত। এরপর ২৫ লাখ টাকা নিয়ে সাগর উধাও হয়ে যান।

এদিকে টাকা নিয়ে অফিসে না আসায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সোয়েব আক্তার ব্যাংকে গিয়ে এর সত্যতা জানতে পারেন। পরে ম্যানেজার সোয়েব আক্তার বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করলে এর তদন্তভার দেয়া হয় পিবিআইকে। পিবিআইর এসআই মীর আমিরুল ইসলাম এর তদন্ত করেন।

চাঁদপুর পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জুনায়েত কাউছার জানান, পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার স্যারের নির্দেশনায় গত ১১ জুন পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান ও তদন্তকারী অফিসার এসআই মীর আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন জিয়ানগর গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় একটি ভাড়া করা বাসা থেকে প্রধান আসামী সাগর কুমার দত্ত ও তার স্ত্রী স্বপ্না রাণী ভৌমিককে গ্রেফতার করে চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্বপ্না ভৌমিক তার হেফাজতে থাকা ৭ লাখ টাকা এবং সাগর কুমার দত্তের হেফাজতে থাকা ৪ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট ১১ লাখ টাকা পিবিআই কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন।

এ বিষয়ে পিবিআই কর্মকর্তা মীর আমিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত দম্পতিকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদ ও অবশিষ্ট ১৪ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্যে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

কামরুজ্জামান টুটুল

পাঠকের মন্তব্য